Deprecated: Function WP_Dependencies->add_data() was called with an argument that is deprecated since version 6.9.0! IE conditional comments are ignored by all supported browsers. in /home/mbvdposo/public_html/wp-includes/functions.php on line 6131

Shantiniketan

শান্তিনিকেতন, বীরভূম (পশ্চিমবঙ্গ)

২০২০ সালের মার্চ মাস থেকে অতিমারী যেন আমাদের গোটা জীবনযাত্রায় ঘুণ ধরিয়ে দিয়েছিল ! আগের দেড় বছরে কতকিছু পরিবর্তন হয়ে গেছে, কিন্তু কিছু জিনিসের পরিবর্তন না হওয়াই ছিল বাঞ্ছনীয়, যেমন চরৈবেতি ! তাই ঠিক করা গেল, সেবারের ছেলের জন্মদিনের সময় কাছাকাছি কোথাও ঘুরে আসা যাক।

যাত্রা শুরু

সেইমত ৬ ই মার্চ সকালে বেরিয়ে, হাওড়া ব্রীজ পেরিয়ে, সোজা দিল্লী রোড (বা দুর্গাপুর expressway) ধরে চললাম শান্তিনিকেতনের উদ্দেশ্যে। পথে সিঙ্গুরের কাছে একটি ছোট রেস্তোরায় পাউরুটি, ডিমভাজা, আলু পরোটা ও গরম চা সহযোগে প্রাতরাশ সেরে নেওয়া হল। নিচের ছবিটিতে hand-sanitizer এর উপস্থিতি লক্ষ্যণীয়, সেই সময়ে (২০২০-২০২১ সালে) বাড়ির বাইরে বেরতে গেলে মানুষ moneybag নিয়ে বেরতে ভুলে গেলেও এই বস্তুটি ভুলত না !

প্রায় সাড়ে ৪ ঘন্টার রাস্তা নির্বিঘ্নেই পেরনো গেল, কারণ রাস্তা যথেষ্ট ভাল। সিঙ্গুর ও তার আশেপাশে বেশ কিছু পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন ছোট রেস্তোরা বা ধাবা জাতীয় খাওয়ার জায়গা আছে highway তে যাতায়াত করা যাত্রীদের জন্য, তাই অসুবিধার বিশেষ অবকাশ নেই।

আমার দেশে, আমার প্রথম long-drive এর শেষে আমরা পৌঁছলাম রাম শ্যাম ভিলেজ রিসর্ট এ। বেশ সুন্দর, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন জায়গা, চারদিকে গাছপালা ঘেরা এবং সোনাঝুরির হাট এর একদম পাশে। রিসর্টের লোকজনের ব্যাবহার অত্যন্ত অমায়িক, বন্ধুত্বপূর্ণ । অতিথিদের সুবিধা-অসুবিধার দিকে যথেষ্ট নজর । বেশ খানিকটা জায়গা জুড়ে রিসর্টটি হওয়ার ফলে বড়দের একটু হাত-পা ছড়ানোর বা বাচ্চাদের একটু হুটোপুটি করার জন্য আদর্শ জায়গা।

এই রিসর্টটির অন্যতম আকর্ষণ হল এর ভোজের বন্দোবস্ত। দেখলাম যে আশেপাশের অন্যান্য রিসর্ট/ হোটেল থেকেও লোকজনরা এখানেই খেতে আসছে ! তার কারণ মূলত দুটি; প্রথমত অনেক জায়গায় নিজস্ব রেস্তোরা নেই, আর দ্বিতীয়ত রাম শ্যাম ভিলেজ রিসর্ট এর খাদ্য অত্যন্ত ভাল। অপরের থালিটির পদসংখ্যা নেহাত কম নয়, কিন্তু তা বলে গুণমানের সাথে কোন আপোশ নেই ! প্রতিটা পদই অত্যন্ত সুস্বাদু ও মুখরোচক।

দর্শনীয় স্থান

এখানে মূলত মানুষ আসে কবিগুরুর আশ্রমের টানে, কোপাই নদী আর সোনাঝুরির জঙ্গলের টানে , আসে বীরভুমের লালমাটির রুক্ষ সৌন্দর্যের টানে। কিছু মানুষ আঁতলামীর টানেও আসে, কিন্তু আমরা দুজনেই কোনদিনই সে টান অনুভব করিনি। তাই আমার নতুন জায়গায় যাই, সেই জায়গার নিজস্বতার টানেই। তাই দর্শনীয় স্থান দেখার ইচ্ছে থাকে, কিন্তু প্রতিটি বিন্দু ছোঁয়ার আকুতি থাকেনা, আমরা ঘুরি আমাদের নিজেদের ইচ্ছেতে, গতিতে।

তাই শান্তিনিকেতন বন্ধ থাকলেও, তার রাস্তায় ঘুরে বেড়িয়ে, পাখি ও প্রকৃতি দেখে, সোনাঝুরির জঙ্গলে ছেলের সাথে দৌড়ে, ছবি তুলে, সোনাঝুরির হাটে ঘুরে, বল্লভপুর deer পার্কে গিয়ে আর পরমান্ন দিয়ে ছেলের জন্মদিন পালন করে দিব্যি আড়াই দিন কেটে গেল আর তার কিছু মুহূর্ত ধরা থাকলো আমাদের ক্যামেরায় ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *